উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির পুঞ্জীভূত চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে আজ বিএনপির প্রথম বাজেট পেশ, থাকছে বেশ কিছু নতুন চমক

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও রাজস্ব ঘাটতির পুঞ্জীভূত চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়ে আজ বিএনপির প্রথম বাজেট পেশ, থাকছে বেশ কিছু নতুন চমক

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্রক্ষমতায় এসে নানামুখী অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে আজ জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত প্রথম বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান বিএনপি সরকার। আজ বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দেশের ৫৫তম এই সামষ্টিক বাজেট পেশ করবেন, যেখানে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের নানামুখী রূপরেখা ও জনবান্ধব প্রতিশ্রুতি থাকবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকদের মতে, বিগত নির্বাচনকালীন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতার পথে ফিরিয়ে আনা, ক্রমাগত জিডিপি ও প্রাইভেট বিনিয়োগ হ্রাস পাওয়া, মাইনাস ২ শতাংশ নেতিবাচক রপ্তানি প্রবৃদ্ধি এবং এলসি খোলার স্থবিরতা কাটিয়ে জনজীবনে স্বস্তি ফেরানোই হবে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। বিশেষ করে, চলতি অর্থবছরের তুলনায় এক ধাক্কায় ২৩ শতাংশ বাড়িয়ে যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে (যার মধ্যে এনবিআর-এর লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা), তা অর্জন করা এবং ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার বিশাল বাজেট ঘাটতি মেটাতে গিয়ে দেশের ব্যাংক খাত থেকে ১ লাখ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেওয়ার ফলে বেসরকারি খাত যাতে ঋণ সংকটে না পড়ে, সেই ভারসাম্য রক্ষা করা সরকারের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে। একই সাথে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বাড়ায় বিদ্যুৎ, গ্যাস ও সার খাতে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার ক্রমবর্ধমান ভর্তুকির চাপ এবং বৈদেশিক ঋণের কিস্তি পরিশোধের বোঝা সামলানোও অর্থমন্ত্রীর জন্য এক বড় অগ্নিপরীক্ষা।

অর্থনীতিবিদ ড. খন্দকার মুস্তাফিজুর রহমানের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে এনে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানোই এই বাজেটের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। বাজেট সংশ্লিষ্ট সূত্র ও সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস (BSS) থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই কঠিন চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যেই জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবারের বাজেটে বেশ কিছু চমকপ্রদ ও উদ্ভাবনী কর্মসূচির প্রস্তাব রাখা হচ্ছে, যার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ নিচে দেওয়া হলো:

  • নতুন বেতন কাঠামো: সরকারি চাকরিজীবীদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে নতুন পে-স্কেলের আংশিক বা প্রাথমিক ঘোষণা আসতে পারে এই বাজেটে।
  • উদ্যোক্তা ও এসএমই তহবিল: দেশে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বেসরকারি খাতকে চাঙ্গা করতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME) খাতের জন্য ২ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ বড় তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকছে।
  • ‘বাংলাবিজ’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম: ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে এবং লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ার জটিলতা দূর করতে একটি সমন্বিত ডিজিটাল ওয়ান-স্টপ সার্ভিস ‘বাংলাবিজ’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
  • এনবিআর সংস্কার ও অনলাইন কর ব্যবস্থা: করদাতাদের হয়রানি কমাতে কর রিটার্ন সম্পূর্ণ অনলাইনে দাখিল, সরাসরি ব্যাংক হিসাবে রিফান্ড (কর ফেরত) প্রদান এবং কর-সংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির আধুনিক আইনি কাঠামো প্রস্তাব করা হচ্ছে।
  • ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি: দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় পরিবর্তন আনতে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ২৫ লাখ প্রান্তিক ও সাধারণ নাগরিকের জন্য ডিজিটাল ‘ই-হেলথ কার্ড’ সুবিধা চালু করা হচ্ছে।
  • সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী: সাধারণ মানুষের খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে পূর্বের বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো বেশ কিছু নতুন সামাজিক কল্যাণমুখী কর্মসূচি এই বাজেটে যুক্ত করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *