গাংনীতে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার, সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে ধ্বংস

গাংনীতে ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার, সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে ধ্বংস

নিজস্ব প্রতিবেদক:

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রামে দীর্ঘ ৫১ ঘণ্টার উৎকণ্ঠার অবসান ঘটেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঘিরে রাখা স্থান থেকে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবাহী ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করে তা নিরাপদে ধ্বংস করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর ৫৫ পদাতিক ডিভিশনের বোম ডিসপোজাল ইউনিট। এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক আতঙ্কের সৃষ্টি হলেও সেনাবাহিনীর সফল অভিযানের পর স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

যশোর সেনানিবাস থেকে আসা মেজর তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ১৯ সদস্যের একটি বিশেষজ্ঞ বোম ডিসপোজাল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। সেনাবাহিনীর সদস্যরা নিখুঁত পরিকল্পনায় ধাপে ধাপে মাটি খনন করে মোট ৯৬টি ল্যান্ডমাইন উদ্ধার করেন। এর মধ্যে ৭৯টি মানববিধ্বংসী (এন্টি-পার্সোনাল) এবং ১৭টি ট্যাংকবিধ্বংসী (এন্টি-ট্যাংক) ল্যান্ডমাইন ছিল। উদ্ধারকাজ শেষে সন্ধ্যায় ল্যান্ডমাইনগুলো সতর্কতার সাথে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে লোকালয় থেকে দূরে মধুগাড়ী নদীর তীরবর্তী স্থানে নিয়ে বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় ও ধ্বংস করা হয়।

এর আগে গত শনিবার (৮ আগস্ট) স্থানীয় কৃষক কালু মালিথা নিজ পতিত জমিতে কাজ করার সময় মাটির নিচে বিস্ফোরকসদৃশ একটি বস্তু দেখতে পান। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানাজানি হলে পুলিশ ও ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন দ্রুত ঘটনাস্থলটি ‘ক্রাইম সিন’ হিসেবে চিহ্নিত করে কড়া নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলে।

স্থানীয় প্রবীণদের ধারণা, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অগ্রযাত্রা রোধে মুক্তিযোদ্ধারা কৌশলগত স্থান হিসেবে এই এলাকায় ল্যান্ডমাইনগুলো পুঁতে রেখেছিলেন। দীর্ঘদিন মাটির নিচে চাপা পড়ে থাকায় বিষয়টি লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে যায়। সম্প্রতি কৃষিকাজের জন্য মাটি খনন করতে গিয়ে এগুলো প্রকাশ্যে আসে।

গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী জানান, যশোর সেনানিবাস থেকে আসা সেনাবাহিনীর অভিজ্ঞ বোম ডিসপোজাল ইউনিট অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও সতর্কতার সাথে উদ্ধার অভিযান সমাপ্ত করেছে। উদ্ধারকৃত ৯৬টি ল্যান্ডমাইনই নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে সম্পূর্ণ ধ্বংস করা হয়েছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *