ওয়ান নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশের বহুল আলোচিত তিস্তা নদীর পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে বেইজিংয়ের সরাসরি সহায়তার আশ্বাস দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এক সংবাদ সম্মেলনে স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্প বাংলাদেশের জনগণের জীবনমান উন্নয়নের সাথে জড়িত এবং চীন এখানে সব ধরনের সহযোগিতা দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত; তবে এটি কোনো তৃতীয় পক্ষকে লক্ষ্য করে নয় এবং একে যেন সেই দৃষ্টিতে দেখা না হয়। চীনের এই প্রকাশ্য অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো যখন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশদ্বার শিলিগুড়ি করিডরের কাছাকাছি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে ভারতের কৌশলগত মহলে এই প্রকল্প নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চলছে। ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন যে, শিলিগুড়ির নিকটবর্তী হওয়ায় তিস্তা অববাহিকায় চীনের মতো বড় শক্তির ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি শুধু পানি ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে গভীর নিরাপত্তা ও কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে; যদিও এ বিষয়ে নয়াদিল্লি এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। পূর্বে শেখ হাসিনা সরকারের আমলে এই প্রকল্পে ভারতের অংশ নেওয়ার বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা হলেও, বর্তমান সরকার চীনের সহযোগিতার দিকে ঝুঁকে পড়ায় পুরো দৃশ্যপট পাল্টে গেছে; বিশেষ করে চলতি বছরের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বেশ গতি পায়। ভারতের বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ তার নিজস্ব প্রয়োজনে যেকোনো দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নেওয়ার অধিকার রাখলেও, প্রতিবেশী হিসেবে এই অঞ্চলের যেকোনো বড় অবকাঠামোর নিরাপত্তাগত দিক খতিয়ে দেখা ভারতের স্বাভাবিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। দক্ষিণ এশিয়ার এই পরিবর্তিত বাস্তবতায় তিস্তা প্রকল্প এখন কেবল সাধারণ একটি নদী উন্নয়ন কর্মসূচি নয়, বরং এটি বাংলাদেশ, ভারত ও চীনের মধ্যকার আঞ্চলিক কূটনীতির এক নতুন ও স্পর্শকাতর সমীকরণে রূপ নিয়েছে, যার অগ্রগতি বিশ্বমঞ্চেও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

