ন্যাটো নিয়ে উত্তেজনা, স্পেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তার ইঙ্গিত

ন্যাটো নিয়ে উত্তেজনা, স্পেনকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর বার্তার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোটের ভেতরে মতপার্থক্য ও অসন্তোষ ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। বিশেষ করে কয়েকটি মিত্র দেশের ভূমিকা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ক্ষোভ বাড়ছে বলে জানা গেছে।

মার্কিন প্রশাসনের একটি সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সামরিক পরিস্থিতিতে অনেক মিত্র দেশ প্রত্যাশিত সহযোগিতা দেয়নি। সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার, আকাশসীমা উন্মুক্ত করা কিংবা কৌশলগত সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অনীহা দেখিয়েছে—যা ওয়াশিংটনের জন্য হতাশাজনক।

‘অ্যাকসেস, বেসিং অ্যান্ড ওভারফ্লাইট’ সুবিধাকে ন্যাটোর মৌলিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে ধরা হলেও বাস্তবে তা সব ক্ষেত্রে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এ অবস্থায় পেন্টাগনের অভ্যন্তরে বিকল্প পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা চলছে। এর মধ্যে রয়েছে, সহযোগিতায় পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর বিরুদ্ধে প্রতীকী বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ও।

তবে ন্যাটোর নিয়ম অনুযায়ী কোনো সদস্য রাষ্ট্রকে সরাসরি বহিষ্কার করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন জোট সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের পর থেকেই এই অসন্তোষ বাড়তে থাকে। হরমুজ প্রণালি সংকটের সময়ও মিত্রদের পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে জোটের কার্যকারিতা ও পারস্পরিক আস্থার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

এদিকে স্পেনকে ঘিরে বিশেষ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাবে স্পেনের অনাগ্রহ এবং সামরিক সহযোগিতার সীমাবদ্ধতা—এই দুই বিষয়ই ওয়াশিংটনের ক্ষোভের কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে। পেন্টাগনের আলোচনায় এমন ইঙ্গিতও রয়েছে যে, স্পেনের বিরুদ্ধে প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা অন্য মিত্রদের জন্য একটি সতর্কবার্তা হতে পারে।

সব মিলিয়ে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ন্যাটোর অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও গভীর হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *