পুশ ইনের শিকার শিশুসহ ছয়জনের কাটছে অনিশ্চিত প্রহর

পুশ ইনের শিকার শিশুসহ ছয়জনের কাটছে অনিশ্চিত প্রহর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সীমান্তের কাঁটাতারের দুই প্রান্তে অস্ত্রের ঝনঝনানি আর কড়া পাহারা। কিন্তু এই দুই দেশের মাঝখানের শূন্যরেখা যখন কিছু মানুষের নিয়তি হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেখানে কেবলই ঝরে পড়ে মানবিকতার করুণ দীর্ঘশ্বাস।

তীব্র তাপদাহে চারদিক যখন ওষ্ঠাগত, তখন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের মেইল পিলার ১৪০-এর সাব পিলার ৫ সংলগ্ন শূন্যরেখায় কাটছে এক চরম মানবিক সংকটের প্রহর।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুশ-ইনের শিকার হয়ে সেখানে আটকে আছেন এক শিশুসহ মোট ছয়জন মানুষ। না পারছেন এগোতে, না পারছেন পিছু হটতে। দুই দেশের কঠোর অবস্থানের মাঝখানে দাঁড়িয়ে তীব্র গরম, খাবার ও পানির সংকট আর ভবিষ্যৎহীনতার আশঙ্কায় কাটছে তাদের প্রতিটি মুহূর্ত।

শনিবার ভোররাতে তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকা দিয়ে বিএসএফ এই ছয়জনকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়ার গেট খুলে দিলে তারা নিরুপায় হয়ে পায়ে হেঁটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং স্থানীয় গ্রামবাসী তাৎক্ষণিকভাবে তাদের প্রতিরোধ করে। ফলে তীব্র প্রতিরোধের মুখে তারা বাংলাদেশের সীমানায় ঢুকতে না পেরে আবারও কাঁটাতারের ওপারে ভারতের ভূখণ্ডে ফিরে যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু বিএসএফ তাদের নিজেদের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে না নিয়ে কাঁটাতারের ওপারে অনড় অবস্থানে রেখে দিয়েছে। অসহায় এই দলটিতে রয়েছেন তিনজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং মাত্র একটি অবুজ শিশু।

সীমান্তের শূন্যরেখায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মানুষগুলোর চোখেমুখে এখন শুধুই ক্লান্তির ছাপ। তীব্র গরমে মাথার ওপর খোলা আকাশ আর পায়ের নিচে তপ্ত মাটি ছাড়া তাদের আর কোনো আশ্রয় নেই। দুপুরের পর থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে শূন্যরেখার কাছে অবস্থানরত এক বৃদ্ধা নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। দীর্ঘ সময় খোলা আকাশের নিচে অবস্থান এবং কোনো খাবার বা বিশুদ্ধ পানি না পাওয়ায় শিশুটির কান্না আর বড়দের অসহায় চাউনি সীমান্তের বাতাসকে ভারী করে তুলছে।


এপারে বিজিবি ও গ্রামবাসী এবং ওপারে বিএসএফ-এর সশস্ত্র অবস্থানের মাঝখানে পড়ে এক চরম মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক যন্ত্রণার মুখোমুখি তারা।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই পুশ-ইন ঠেকাতে ভোর থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য। বিজিবির পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে বারবার বিএসএফকে আহ্বান জানানো হচ্ছে যেন তারা এই ছয়জনকে ফিরিয়ে নেয়। তবে বিজিবির এই আহ্বানে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া বা ইতিবাচক পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *