ওয়ান নিউজ ডেস্ক: বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ৫৩ বছরের প্রাচীন ‘শিবগঞ্জ পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’-এর নাম পরিবর্তন করে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের নামে করার প্রস্তাব নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়টির ব্যবস্থাপনা কমিটির পক্ষ থেকে সম্প্রতি ‘শিবগঞ্জ মীর শাহে আলম পাইলট বালিকা উচ্চবিদ্যালয়’ নামকরণের একটি আবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। ইতিপূর্বেই প্রতিমন্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে ১০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে।
তবে এই নামকরণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্বয়ং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তাঁর রাজনৈতিক প্রেস সেক্রেটারি জানান, স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে তাঁর নামে ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তনের এই উদ্যোগকে অনভিপ্রেত আখ্যা দিয়ে ১ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি আধা সরকারি (ডিও) পত্র পাঠিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। পত্রে তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও স্বাতন্ত্র্য অক্ষুণ্ন রাখাই সমীচীন। একই সাথে তাঁর বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়ে নতুন কোনো নামকরণের প্রস্তাব অনুমোদন না করার অনুরোধ জানান তিনি।
নাম পরিবর্তনের প্রক্রিয়া ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া: মন্ত্রণালয় গত ৯ জুন রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নীতিমালা অনুযায়ী সরেজমিনে পরিদর্শন করে নাম পরিবর্তনের যৌক্তিকতাসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মতিয়ার রহমান এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে বলেন, সাবেক মন্ত্রী মোজাফফর হোসেনের প্রতিষ্ঠিত এবং স্থানীয়দের দান করা জমিতে গড়ে ওঠা এই বিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা অতীতে কেউ কখনো করেনি।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম নামকরণের পক্ষে সাফাই গেয়ে জানান, প্রতিমন্ত্রীর উন্নয়নমূলক অবদান এবং বিদ্যালয়টি জাতীয়করণের প্রক্রিয়ায় তাঁর ভূমিকার কারণেই ব্যবস্থাপনা কমিটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে প্রতিমন্ত্রীর আপত্তির মুখে গত ১১ জুন আবেদনটি প্রত্যাহারের জন্য মন্ত্রণালয়ে আরেকটি চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন প্রধান শিক্ষক, যদিও তিনি সেই চিঠির কোনো অনুলিপি দেখাতে পারেননি।

