দুর্ঘটনা নাকি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যুকে খুনের রূপ দেওয়ার অভিযোগ!

দুর্ঘটনা নাকি প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর চেষ্টা? ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যুকে খুনের রূপ দেওয়ার অভিযোগ!

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বহুতল ভবন থেকে পড়ে এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। নিজের আপন বড় ভাইকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত আলকাছ মিয়া ও তার পরিবার নিজেদের আগের অপরাধ ঢাকতে এবং প্রতিপক্ষকে বিপদে ফেলতে একটি দুর্ঘটনাকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি দুর্ঘটনা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড-তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ‍

গত ৭ তারিখ, শুক্রবার বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটের দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোডের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার সিঁড়ির পাশ থেকে ১৩ বছর বয়সী স্কুলছাত্র মোহাম্মদ আনিসুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আনিসুর নবীনগর উপজেলার লক্ষ্মীপুর সাতঘরহাটি গ্রামের আলকাছ মিয়ার ছেলে এবং কৃষ্ণনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তারা বর্তমানে ওই চারতলা ভবনের তৃতীয় তলায় একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস করছিল। ঘটনার পর পরই এটি ভবন থেকে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা হিসেবে সবার মুখে আলোচনা হলেও, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে নিহতের পরিবার একে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করতে শুরু করে। জানা যায়, নিহতের বাবা আলকাছ মিয়া এর আগে তার নিজের আপন বড় ভাই ইসমাইলকে রড দিয়ে আঘাত করে খুন করেন এবং সেই মামলায় দীর্ঘদিন জেলও খাটেন।

জানা যায়, মূলত সেই পুরনো খুনের মামলা থেকে নিজেদের বাঁচাতে এবং ইসমাইলের পরিবারের ওপর প্রতিশোধ নিতেই তার ছেলে মোস্তফাকে এই ঘটনায় ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা নাটক সাজাচ্ছে নিহতের পরিবার। তারা পিঠে ও মাথা ছুরির আঘাতের বড় দাবি তুললেও মরদেহে এমন কোনো চিহ্নই মেলেনি। অপর দিকে, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মোস্তফা বন্ধুদের সাথে দুই দিনের নৌকা ভ্রমণে এলাকাতেই ছিলেন না, যার অকাট্য ছবি ও ভিডিও প্রমাণ দেখিয়েছে সহপাঠিরা । পুলিশও মরদেহের অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে এটিকে একটি দুর্ঘটনা বলেই মনে করছে। এদিকে, গত ৮ তারিখ সন্ধ্যার দিকে আনিসুরের মরদেহ তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং ৯ তারিখ সকালে জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে ( অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( সদর সার্কেল), এম এম রকীব উর রাজা বলেন, প্রাথমিক ভাবে এটা দুর্ঘটনা মনে হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত হোক-পোস্টমর্টেম রিপোর্ট আসলে বলা যাবে।

একটি দুর্ঘটনাকে খুনের রূপ দিয়ে কোনো নির্দোষ যুবক যেন ফেঁসে না যায়-এমনটাই দাবি সাধারণ এলাকাবাসীর। ময়না তদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের পরই এই ঘটনার আসল সত্য এবং পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *