ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের মনোনয়নপত্র বাতিলের ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হাইকোর্ট। এ বিষয়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন আদালত।
বুধবার বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে মনিরা শারমিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিমসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল।
শুনানি শেষে আইনজীবীরা জানান, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের চাকরি থেকে অবসরের তিন বছর পূর্ণ না হলে কেউ সংসদ সদস্য পদে মনোনয়ন জমা দিতে পারেন না। তবে মনিরা শারমিনের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয় বলে দাবি করা হয়।
আইনজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের চাকরি থেকে তিনি নিয়ম অনুযায়ী তিন মাসের বেতন পরিশোধ করে চাকরি ছেড়েছেন। ফলে এটি স্বাভাবিক পদত্যাগের মধ্যে পড়ে না এবং আরপিওর সীমাবদ্ধতার আওতায়ও আসে না। সেই কারণে তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলে দাবি করা হয়।
আদালতের আদেশের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মনিরা শারমিন। তিনি বলেন, এই আইন মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে থাকা ব্যক্তিদের জন্য প্রণীত হয়েছিল, যাতে তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে না পারেন। কিন্তু একটি ব্যাংকের কর্মকর্তা হিসেবে তার এমন কোনো প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছিল না।
তিনি আরও বলেন, সংরক্ষিত নারী আসনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো নির্বাচনি এলাকা না থাকায় এই বিধান তার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত নয়। তার মতে, এ ধরনের আইন তরুণ ও শিক্ষিতদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণে নিরুৎসাহিত করছে।
মনিরা শারমিন অভিযোগ করেন, একই ধরনের পরিস্থিতিতে অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ভিন্ন আচরণ করা হলেও তার ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তিনি নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দ্বৈত নীতির অভিযোগও তোলেন।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে কর্মরত থাকার পর চাকরি ছাড়ার তিন বছর পূর্ণ হয়নি—এই কারণ দেখিয়ে গত ২৩ এপ্রিল তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেও তিনি স্বস্তি পাননি। এরপর প্রার্থিতা ফিরে পেতে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন তিনি।

