মেক্সিকোতে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা, সশস্ত্র হামলায় ওয়ানাহাকা রাজ্যের শহর মেয়র নিহত

মেক্সিকোতে আবারও রাজনৈতিক সহিংসতা, সশস্ত্র হামলায় ওয়ানাহাকা রাজ্যের শহর মেয়র নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকোতে মাদক কার্টেল ও রাজনৈতিক সহিংসতার রক্তক্ষয়ী ধারাবাহিকতায় এবার সশস্ত্র হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য ওয়ানাহাকার (Oaxaca) একটি শহরের মেয়র। নিহত মেয়রের নাম জোয়েল ব্রাভো, তিনি সান মিগেল আমাতিতলান (San Miguel Amatitlán) শহরের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-এর বরাতে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

রাজ্যের প্রসিকিউটর বা অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে জানিয়েছে, মেয়র জোয়েল ব্রাভোকে লক্ষ্য করে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা হামলা চালালে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুবিধার্থে হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ বা বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি স্থানীয় প্রশাসন। মেয়রের এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর ওয়ানাহাকার গভর্নর সালোমোন হারা তীব্র নিন্দা ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে কোনো ধরনের সহিংসতা বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।

হত্যাকাণ্ডের পর থেকে সংশ্লিষ্ট শহর ও আশপাশের সীমান্ত এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সোয়াত টিম মোতায়েন করা হয়েছে। গভর্নর জানিয়েছেন, হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে খুঁজে বের করতে পুলিশের বিশেষ ট্যাকটিক্যাল ইউনিট কাজ করছে এবং এই চিরুনি অভিযানে মেক্সিকান ফেডারেল সিকিউরিটি ফোর্স বা কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিশেষ সহায়তাও নেওয়া হচ্ছে।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, ওয়ানাহাকা রাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে মেক্সিকোর সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও কুখ্যাত দুটি মাদক চক্র—‘জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন’ (CJNG) এবং ‘সিনালোয়া কার্টেল’ অত্যন্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই শক্তিশালী গোষ্ঠীর মধ্যে মাদক চোরাচালানের রুট ও অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রায়শই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনের ঘটনা ঘটে থাকে। মেক্সিকোতে মাদক এবং ক্ষমতার এই সহিংসতা গত দুই দশকে আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ও স্থানীয় প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে মেক্সিকো সরকার মাদকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ১০০ জনেরও বেশি মেয়র ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে এই কার্টেল সদস্যরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *