নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেহেরপুর শহরের ব্যস্ততম কোর্ট এলাকা। জেলা জজ আদালতের প্রধান ফটকের পাশ দিয়ে হাঁটতেই কানে ভেসে আসে ‘ভাইয়া খাইয়া যান, ভাবির জন্য লইয়া যান, আপনার বাচ্চার জন্য লইয়া যান!’ একটু সামনে এগোতেই দেখা মেলে এক ব্যতিক্রমী দৃশ্যের। একটি ইজিবাইককে ঘিরে মানুষের বেশ ভিড়। কেউ এক প্যাকেট, কেউ আবার দুই প্যাকেট বিরিয়ানি কিনে নিচ্ছেন বেশ আগ্রহ নিয়ে। কাছে যেতেই বোঝা যায়, এটি সাধারণ কোনো ভ্যান বা দোকান নয়, এটি রীতিমতো এক অভিনব ‘ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি হাউজ’।
ইজিবাইকের ভেতরটা বেশ পরিপাটি করে সাজানো। থরে থরে সাজানো গরম বিরিয়ানির ভাত, সেদ্ধ ডিম, মুরগির মাংসের টুকরো, তাজা সালাদ, সুপেয় পানি আর কোমল পানীয়। এই ব্যতিক্রমী দোকানে মাত্র ৯৯ টাকায় ক্রেতারা পাচ্ছেন এক প্যাকেট সুস্বাদু চিকেন বিরিয়ানি, সঙ্গে একটি ডিম, এক বোতল পানি এবং একটি কোল্ড ড্রিংকস! আর শুধু বিরিয়ানি নিতে চাইলে মিলছে মাত্র ৫০ টাকায়। কম খরচ আর চমৎকার স্বাদের কারণে অল্পদিনেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে এটি।
উদ্যোক্তা সুমন শিকদারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এর পেছনের গল্প। প্রায় আট মাস আগে মাত্র ৫০ প্যাকেট খাবার তৈরি করে এই উদ্যোগটি শুরু করেছিলেন তিনি। স্থায়ী কোনো দোকান বা হোটেলের উচ্চ ভাড়ার ঝামেলা এড়াতে তিনি বেছে নেন ইজিবাইক। এই বাহনটিকেই নিজের দোকান বানিয়ে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকায় ঘুরে ঘুরে বিরিয়ানি বিক্রি করেন তিনি। শুরুটা ছোট হলেও খাবারের মান ও সাশ্রয়ী মূল্যের কারণে দিন দিন বাড়ছে ক্রেতাদের চাহিদা। মানুষের সাড়াও মিলছে বেশ ভালো। ফলে ক্রেতাদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে এখন প্রতিদিনের রান্নার পরিমাণও দ্বিগুণ করা হয়েছে।
সুমন শিকদার জানান, তাদের কর্মযজ্ঞ শুরু হয় ভোরের আলো ফোটার আগেই। পরিবারের সহযোগিতায় নিজের তত্ত্বাবধানেই রান্নার সমস্ত প্রস্তুতি শেষ করা হয়। এরপর সুস্বাদু ও গরম খাবারগুলো ইজিবাইকে সাজিয়ে বিক্রির উদ্দেশ্যে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন তিনি। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি এই খাবারগুলো গরম গরম পরিবেশন করায় ক্রেতাদের মধ্যেও খাবার নিতে বেশ আগ্রহ দেখা দেয়।
সাশ্রয়ী মূল্যে এমন মানসম্মত খাবার পেয়ে বেশ খুশি ক্রেতারাও। কোর্ট এলাকায় নিয়মিত যাতায়াতকারী এক ক্রেতা মাসুম বলেন, ‘বাইরে ভালো মানের বিরিয়ানি খেতে গেলে দেড় থেকে দুইশ টাকার বেশি লাগে। অথচ এখানে মাত্র ৯৯ টাকায় পুরো এক প্যাকেট মোরগ পোলাও সঙ্গে ডিম, পানি ও কোল্ড ড্রিংকস পাওয়া যাচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থেকে আদালতে আসা রাসেল আহমেদ বলেন, ‘এক আত্মীয়ের জামিনের বিষয়ে মেহেরপুর আদালতে এসেছি। বাইরে এসে দেখি চমৎকার এই আয়োজন। দুই বাচ্চার জন্য দুই প্যাকেট খাবার কিনলাম। ইজিবাইকে এমন ভ্রাম্যমাণ বিরিয়ানি হাউজ আগে কখনো দেখিনি।
সাইফুল নামের আরেক ক্রেতা বলেন, ‘রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ চোখে পড়ল। অনেকেরই শহরের নামিদামি রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কেনার সামর্থ্য থাকে না। কিন্তু এখানে ৫০ থেকে ৯৯ টাকার মধ্যে মোরগ পোলাও বা বিরিয়ানি পাওয়ায় সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য দারুণ সুবিধা হয়েছে।
ব্যবসার এমন সাফল্যে দারুণ আশাবাদী উদ্যোক্তা সুমন শিকদার। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, বর্তমান সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে খুব শীঘ্রই লোকবল বাড়াবেন তিনি। পাশাপাশি মেহেরপুর সদর ছাড়াও মুজিবনগর ও গাংনী উপজেলায় এই ভ্রাম্যমাণ ইজিবাইক বিরিয়ানি হাউজের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার।

