ডেস্ক রিপোর্ট:
রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে ‘ব্লক রেইড’ অভিযান আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক কারবার ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে নেওয়া হচ্ছে কঠোর পদক্ষেপ।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া বিভাগের উপ-কমিশনার এন এম নাসিরুদ্দিন জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং এটি ধারাবাহিকভাবে চলবে। অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনাই এর মূল লক্ষ্য।
আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নে পুলিশসহ অন্যান্য সংস্থাও সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশ পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, সিআইডি ও ডিএমপি যৌথভাবে সহিংসতা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সম্প্রতি তেজগাঁও বিভাগের আওতায় পরিচালিত এক অভিযানে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মোহাম্মদপুর, শের-ই-বাংলা নগর, আদাবর, তেজগাঁও শিল্প এলাকা ও হাতিরঝিলসহ কয়েকটি এলাকায় একযোগে অভিযান চালানো হয়।
ডিএমপি’র তথ্যে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে রাজধানীতে বিভিন্ন অপরাধে ৯ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং এক হাজারেরও বেশি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিভিন্ন থানায় আলাদাভাবে অভিযান চালিয়ে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অপরাধীকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক (এআইজি) এ এইচ এম শাহাদাত হোসাইন জানান, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি এবং প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, জনগণের সহযোগিতা থাকলে এই অগ্রগতি আরও বাড়বে।
ডিএমপি’র গোয়েন্দা শাখার প্রধান মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের অবস্থান শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, সিআইডি খুন, সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও অর্থপাচারসহ বিভিন্ন জটিল অপরাধ তদন্তে সক্রিয় রয়েছে। একইসঙ্গে র্যাব নিয়মিতভাবে মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে।
সীমান্ত এলাকাতেও তৎপর রয়েছে বিজিবি। চোরাচালান, মাদক ও মানবপাচার প্রতিরোধে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য জব্দ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন থানার কর্মকর্তারা জানান, নিয়মিত অভিযান ও নজরদারির ফলে অপরাধ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তারা বলেন, চাঁদাবাজ, কিশোর গ্যাং ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে এবং কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।

