ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে জ্বালানি (ইউরেনিয়াম) লোডিং শুরু হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার শুরু করার পথে গুরুত্বপূর্ণ এক মাইলফলক অতিক্রম করল।
মঙ্গলবার বিকেল ৩টার পর প্রকল্পটির ইউনিট-১–এ রিঅ্যাক্টর কোরে জ্বালানি সংযোজন কার্যক্রম শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, এই ধাপটি সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে দেশটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিচালন পর্যায়ে প্রবেশ করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রুহুল কুদ্দুস জানান, রাশিয়ার প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং দেশীয় প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধানে ধাপে ধাপে মোট ১৬৩টি ফুয়েল অ্যাসেম্বলি রিঅ্যাক্টরে স্থাপন করা হচ্ছে। পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আনুমানিক দেড় মাস সময় লাগবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব আনোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে জুলাইয়ের শেষ অথবা আগস্টের শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন শুরু হলে এক ইউনিট থেকেই ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে।
পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই বৃহৎ প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার। রাশিয়ার অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত কেন্দ্রটিতে ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি রিঅ্যাক্টর স্থাপন করা হয়েছে। উভয় ইউনিট চালু হলে মোট উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ২৪০০ মেগাওয়াট, যা দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এদিকে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম উপলক্ষে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভ একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে আসেন। তিনি ঢাকায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সরাসরি রূপপুর প্রকল্প এলাকায় গিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ প্রস্তুতি ও জটিল প্রযুক্তিগত ধাপ অতিক্রম করে এই পর্যায়ে পৌঁছানো বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এটি দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও টেকসই করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

