ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে পরিচিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত দুই দিক থেকেই নতুন বাস্তবতা তৈরি করছে। পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর তীরে নির্মিত এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ৯০ শতাংশই রাশিয়ার ঋণ সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদে পরিশোধ করতে হবে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকার এই প্রকল্পের ঋণ ২৮ বছরের মধ্যে পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটমের তত্ত্বাবধানে কেন্দ্রটির নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কম ধরা হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে উৎপাদন ব্যয় আগের হিসাবের তুলনায় বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সম্প্রতি কেন্দ্রটির কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, জ্বালানি লোডিং ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে আগামী বছর নাগাদ প্রথম ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনে যেতে পারে। এতে বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় যুক্ত হবে।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহিদুল হাসান জানান, রিঅ্যাক্টরে জ্বালানি স্থাপন একটি জটিল ও সংবেদনশীল প্রক্রিয়া, যা সম্পন্ন করতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগবে। এরপর ধাপে ধাপে নিরাপত্তা যাচাই ও অন্যান্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হবে।
রূপপুর প্রকল্পে দুটি আধুনিক ভিভিইআর-১২০০ রিয়্যাক্টর ব্যবহার করা হচ্ছে, যেগুলোর মাধ্যমে মোট প্রায় ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পূর্ণ উৎপাদনে গেলে এটি দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ পূরণে ভূমিকা রাখবে।
এ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। সরাসরি প্রায় আড়াই হাজার মানুষের কাজের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে, আর নির্মাণকালে প্রতিদিন হাজার হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী বছর পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে এবং ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছাবে কেন্দ্রটি। পাশাপাশি দ্বিতীয় ইউনিটের কাজও পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রকল্প দেশের জ্বালানি খাতে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা করলেও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধ ও উৎপাদন ব্যয় ব্যবস্থাপনা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।

