ওয়ান নিউজ ডেস্ক: গত ১৭ জুন যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয়ই সরে আসার ঘোষণা দেওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সর্বাত্মক যুদ্ধের ঘোর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির পর টানা সাত দিন ধরে ইরানের সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা ও পানি শোধনাগারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোগুলোতে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী, যার ফলে দেশটিতে অন্তত ৫০ জন নিহত ও পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরকে ‘অকার্যকর ও মূল্যহীন’ আখ্যা দিয়েছেন এবং জ্যেষ্ঠ সামরিক উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের এই আগ্রাসন বন্ধ না হলে তেহরানও ‘সর্বাত্মক অভিযান’ শুরু করবে। ইতিমধ্যেই মার্কিন হামলার কড়া জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে পালটা আঘাত হানতে শুরু করেছে; যার মধ্যে রয়েছে কুয়েতের তেল ও বিদ্যুৎ স্থাপনা, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি এবং জর্ডানের আল-আজরাক ঘাঁটি। জর্ডানে সাম্প্রতিক হামলায় দুই মার্কিন সেনার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত মোট ১৬ জন আমেরিকান সেনার প্রাণহানি ঘটল, এবং দীর্ঘ তিন মাস পর সৌদি আরবের আল-খারজে অবস্থিত মার্কিন সেনা অধ্যুষিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতেও ইরানের হামলার খবর পাওয়া গেছে। সুইজারল্যান্ডে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষের এই আক্রমণ ও পালটা আক্রমণের পরিধি ক্রমেই বাড়ছে, যাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেছেন আরব পার্সপেকটিভস ইনস্টিটিউটের পরিচালক জেইদন আলকিনানি; বিশেষ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক মহলের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় এই যুদ্ধ শিগগিরই পুরো অঞ্চলে ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকরা গভীর শঙ্কা প্রকাশ করছেন।

