ওয়ান নিউজ ডেস্ক: আগামী অক্টোবর মাস থেকে ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রক্রিয়ার সূচনা করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন, যেখানে বাস্তবসম্মত কারণে সবার আগে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন যে, সামগ্রিক শাসনতান্ত্রিক বাধ্যবাধকতা পূরণে প্রায় সাড়ে চার হাজারেরও বেশি প্রস্তুত থাকা ইউপিসহ সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে প্রায় এক বছর সময় লাগতে পারে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকারের সঙ্গে এখনো কোনো প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বা চিঠিপত্র আদান-প্রদান না হলেও কমিশন নিজস্ব দক্ষতায় যাবতীয় পূর্বপ্রস্তুতি সম্পন্ন করে রাখছে, যাতে সরকারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর মাত্র এক থেকে দেড় মাসের ব্যবধানেই ভোটগ্রহণ শুরু করা সম্ভব হয়। নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে দেশের আবহাওয়া, বিভিন্ন উৎসব, পরীক্ষা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো বিষয়গুলো বিবেচনা করা হচ্ছে এবং আসন্ন এই স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম, পোস্টাল ব্যালট, অনলাইনে মনোনয়নপত্র জমাদান কিংবা জাতীয় নির্বাচনের মতো পোস্টার ব্যবহারের সুযোগ থাকছে না; এমনকি ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানতের অর্থ বৃদ্ধির মতো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনে বিধিমালা ও আচরণবিধি সংশোধনের খসড়া চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই ভোটগুলোতে অতীতে ঘটে যাওয়া সহিংসতা এড়াতে এবার আইনশৃঙ্খলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে, যার প্রাথমিক দায়িত্বে থাকবে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার বাহিনী এবং প্রতি ধাপের অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণ করা হবে। সম্প্রতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেভাবে দেশি-বিদেশি মহলে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে, সেই একই ধারাবাহিকতা স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে সর্বমহলের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। একই সুরে সম্প্রতি জাতীয় সংসদে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও স্পষ্ট করেছেন যে, আইনানুগ সময়ের মধ্যে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে তাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে।

