ওয়ান নিউজ ডেস্ক | ঢাকা
দেশে হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সম্প্রতি কিছু হাসপাতালে হাম রোগী ভর্তি না নেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এই জরুরি নির্দেশনা দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখা থেকে জারি করা নির্দেশনায় স্বাক্ষর করেছেন পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দেশের সব বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে হাম ও সন্দেহভাজন হাম রোগীদের চিকিৎসার জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি রোগীদের ভর্তি প্রক্রিয়ার আগেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়া বেসরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগুলোতে দরিদ্র রোগীদের জন্য সংরক্ষিত বিনামূল্যের শয্যার একটি অংশ হাম রোগীদের জন্য রাখতে বলা হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে কমপক্ষে ১২টি শয্যা হাম রোগীদের জন্য নির্ধারণ করতে হবে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সঙ্গে একজনের বেশি দর্শনার্থী বা অভিভাবক রাখা যাবে না। প্রতিদিন রোগীদের তথ্য নির্ধারিত অনলাইন সার্ভারে আপলোড করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রয়োজনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ধারিত হটলাইন নম্বর ০১৭৫৯১১৪৪৮৮-এ যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে হাম রোগীদের চিকিৎসায় স্থানীয় সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি মূল নির্দেশনা
- হাম ও সন্দেহভাজন রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড বা কেবিন রাখতে হবে
- রোগী ভর্তি পূর্বেই চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে হবে
- বিনামূল্যের শয্যার অন্তত ৫ শতাংশ হাম রোগীদের জন্য বরাদ্দ রাখতে হবে
- রোগীর সঙ্গে সর্বোচ্চ একজন অভিভাবক থাকতে পারবেন
- প্রতিদিন রোগীর তথ্য অনলাইন সার্ভারে আপলোড করতে হবে
- সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখতে হবে
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সময়মতো চিকিৎসা ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে হাম পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।

