একেএম বজলুর রহমান, পঞ্চগড়:
জলবায়ু সজনশীল জাত ব্রি ১০২ জাতের ধানের (খরা/ বন্যা) প্রযুক্তি নিয়ে কৃষক মাঠ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে ক্লাইমেট স্মার্ট এন্ড ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের আওতায় ব্রি ধান ১০২ জাতের প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। রবিবার সকালে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দন্ডপাল ইউনিয়নের কালীগঞ্জের প্রধানাবাদ ঝাড়পাড়া এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের আয়োজনে মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা শামীম ইসলাম চৌধুরী।
এসময় উপজেলা কৃষি অফিসের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কাদের সরকার, পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক একেএম বজলুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দন্ডপাল ইউনিয়ন বিএনপির ১নং ওয়ার্ডের সভাপতি ইসমাইল হোসেন।
প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারন কর্মকর্তা শামীম ইসলাম চৌধুরী বলেন, ব্রি ১০২ জাতের ধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) কর্তৃক উদ্ভাবিত। বোরো মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল ও জিংক-সমৃদ্ধ জাত। এটি ব্রি ধান২৯ এর চেয়ে বেশি উৎপাদনশীল, যার গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.১০ টন এবং উপযুক্ত পরিচর্যায় ৯.৫৫ টন পর্যন্ত হতে পারে। এটি একটি পুষ্টিসমৃদ্ধ, রোগ বালাই প্রতিরোধী ও চিকন চালের জাত। ব্রি ধান ১০২ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য হল এটি একটি উচ্চ ফলনশীল জিংক-সমৃদ্ধ বোরো ধানের জাত (উফশী)। এর গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৮.১০ টন, তবে উপযুক্ত পরিচর্যায় হেক্টর প্রতি ৯.৫৫ টন পর্যন্ত উৎপাদন সম্ভব। বিঘা প্রতি ৩৩ শতকে ফলন প্রায় ২৭-৩২ মন পর্যন্ত পাওয়া যায়। এ ধানের চালে পুষ্টি গুন জিংকের পরিমাণ ২৫.৫ মিলিগ্রাম/কেজি। এতে ২৮% অ্যামাইলোজ এবং ৭.৫% প্রোটিন থাকে। চারা রোপণের পর ধান পাকা পর্যন্ত সময় লাগে প্রায় ১৫০ দিন। এটি ব্রি ধান ২৯ এর তুলনায় প্রায় দুই দিন আগে পাকে। পূর্ণবয়স্ক গাছের উচ্চতা প্রায় ১০৩ সেমি। ব্রি ধান ২৯ এর তুলনায় এই জাতে রোগবালাই অনেক কম হয়। এটি বাংলাদেশের প্রায় সব জেলায়, বিশেষ করে বোরো মৌসুমে আবাদের জন্য উপযুক্ত। এটি জন প্রিয় ব্রি ধান ২৯ এর একটি উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ বিকল্প।
মাঠ দিবসে প্রধানাবাদ ঝাড়পাড়া এলাকার কৃষক কৃষানীরা উপস্থিত ছিলেন।

