ওয়ান নিউজ ডেস্ক:
মেহেরপুর পৌরসভাকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সাবেক মেয়র মুতাচ্ছিম বিল্লাহ মতুর নাম উল্লেখযোগ্যভাবে উচ্চারিত হয়। ১৯৯৩ সাল থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ সময় তিনি পৌরসভার দায়িত্ব পালন করেন। এই সময়কালে তাঁর নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান পরিবর্তন ঘটে।
শিক্ষা খাতে উন্নয়নের অংশ হিসেবে তাঁর উদ্যোগে মেহেরপুর পৌর কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সরকারি মহিলা কলেজের উন্নয়নেও তিনি ভূমিকা রাখেন, যা স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থাকে এগিয়ে নিতে সহায়তা করে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে শহরের প্রবেশমুখে নির্মিত পৌর গেট ও পাথর গেট মেহেরপুরের একটি স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করে। এছাড়া আধুনিক বাস টার্মিনাল, পশুর হাট এবং টাউন হল নির্মাণের মাধ্যমে নাগরিক সুবিধা সম্প্রসারিত হয়।
ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নেও তাঁর সময়কালে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় ঈদগাহ নির্মাণ এবং কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজ সম্পন্ন করা হয়।
পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে তাঁর সময়ে মেহেরপুর “গ্রিন ও ক্লিন” শহর হিসেবে পরিচিতি পায়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সুপেয় পানির জন্য বড় আকারের পানির ট্যাংক স্থাপন নাগরিক জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
রাজনৈতিক জীবনে তিনি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হন। একাধিক মামলা ও প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে টিকে থাকেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেও নির্বাচনে জয়লাভ করেন, যা তাঁর জনসমর্থনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
পৌরসভার দায়িত্ব শেষে তিনি ‘মায়ের হাসি ক্লিনিক’-এর মাধ্যমে জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখেন।
মেহেরপুরের উন্নয়নযাত্রায় মুতাচ্ছিম বিল্লাহ মতুর ভূমিকা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা রয়েছে। দীর্ঘ সময়ের নেতৃত্বে নেওয়া তাঁর বিভিন্ন উদ্যোগ শহরের বর্তমান অবকাঠামো ও নাগরিক সুবিধার ভিত্তি গড়ে দিয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। সময়ের ব্যবধানে সেই কাজগুলোর প্রভাব আজও দৃশ্যমান, যা মেহেরপুরের আধুনিকায়নের ইতিহাসে তাঁর নামকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

