ওয়ান নিউজ ডেস্ক
সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে না পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন ইরানের নতুন সুপ্রিম লিডার মোজতবা খামেনি। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের উচ্চপর্যায়ের দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন—দেশটির নেতৃত্ব স্পষ্টভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম ইরানের ভেতরেই সংরক্ষণ করা হবে এবং তা কোনোভাবেই বিদেশে স্থানান্তর করা হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অবস্থান তেহরানের পক্ষ থেকে একটি কড়া বার্তা। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পারমাণবিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুতে চলমান আলোচনায় ইরান নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে সম্ভাব্য যেকোনো চুক্তিতে ইরানের সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে ইরানের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই আলোচনায় নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পর্যবেক্ষকের ধারণা, বর্তমানে ইরানের কাছে প্রায় ৪০০ কেজি সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে একাধিক পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা অর্জন সম্ভব হতে পারে। যদিও ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পূর্বে বলেছেন, ইরানের ইউরেনিয়াম কর্মসূচি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসবে না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তেহরানের আশঙ্কা—যদি ইউরেনিয়াম বিদেশে পাঠানো হয়, তাহলে দেশটি আরও বেশি নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ও নিরাপত্তা বিষয়ক চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সুপ্রিম লিডারের অনুমোদনেই কার্যকর হয়।

