ওয়ান নিউজ ডেস্ক: গত ১৮ জুন স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতি ও ইসলামাবাদ চুক্তির মাত্র ২০ দিনের মাথায় হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার অজুহাতে মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বিমান হামলা চালালে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় ভয়াবহ সংঘাত শুরু হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ওই হামলার কড়া জবাব দিতে আইআরজিসির নৌ ও বিমান শাখা যৌথভাবে বাহরাইন এবং কুয়েতে অবস্থিত ৮৫টি গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক স্থাপনায় অসংখ্য ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে একযোগে বিশাল পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে। আইআরজিসি দাবি করেছে যে, বাহরাইনে মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রের পঞ্চম নৌবহরের ঘাঁটি এবং কুয়েতের আলী আল-সালেম বিমান ঘাঁটিতে নিখুঁতভাবে আঘাত হানা হয়েছে এবং এই হামলাটি মূলত তাদের ‘প্রাথমিক জবাব’। এর আগে, ইরানের হরমুজগন ও মাহশাহরের উপকূলীয় ও বেসামরিক অঞ্চলে মার্কিন বিমান হামলাকে চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন বলে অভিহিত করে তেহরান অভিযোগ করেছে যে, প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ঐতিহাসিক জানাজাকে লোকচক্ষুর আড়াল করতেই ওয়াশিংটন পরিকল্পিতভাবে এই সময়টি বেছে নিয়েছে। শুধু তাই নয়, নিজেদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের দায়ে বুশেহর প্রদেশের খোরমুজ এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক ‘এমকিউ-৯’ ড্রোনও ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছেন আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেন মহবি। উদ্ভূত এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে আল-জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক নৌ কর্মকর্তা হার্লান উলম্যান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন যে, এই সংঘাত যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে, যা কারো জন্যই মঙ্গলজনক নয়; তাই উভয় পক্ষের নিজেদের স্বার্থেই পরিস্থিতি দ্রুত শান্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

