ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক নিয়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির

ফ্লোটিলা কর্মীদের আটক নিয়ে সমালোচনার মুখে ইসরায়েলি মন্ত্রী বেন-গভির

ওয়ান নিউজ ডেস্ক

গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া ‘গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা’র কর্মীদের আটকের ঘটনায় তীব্র আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির। যুক্তরাষ্ট্রের দুই ডেমোক্র্যাট সিনেটর, অস্ট্রেলিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এ ঘটনায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটর জেফ মার্কলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বেন-গভিরের আচরণকে ‘অমানবিক ও জঘন্য’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, গাজায় চলমান ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয়ের কারণেই বিশ্বজুড়ে মানুষ প্রতিবাদে নামছে।

অন্যদিকে সিনেটর ক্রিস ভ্যান হলেন বলেন, প্রকাশ্যে বন্দিদের সঙ্গে যেভাবে আচরণ করা হচ্ছে, তা দেখে ফিলিস্তিনিদের প্রতি আড়ালে কী ধরনের আচরণ হতে পারে তা সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি বেন-গভিরের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানান।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ফ্লোটিলা কর্মীদের সঙ্গে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আচরণ উদ্বেগজনক ও অগ্রহণযোগ্য।

তিনি আরও জানান, ফ্লোটিলায় অংশ নেওয়া ১১ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের মুক্তি দাবি করেছে ক্যানবেরা এবং আন্তর্জাতিক আইন মেনে বন্দিদের সঙ্গে আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও কস্তাও একই ঘটনায় বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করে অবিলম্বে আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

সম্প্রতি বেন-গভির নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে দেখা যায়, ফ্লোটিলা কর্মীদের হাত বেঁধে হাঁটু গেড়ে বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং লাউডস্পিকারে ইসরায়েলের জাতীয় সংগীত বাজানো হচ্ছে। ভিডিওটি প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার ঝড় ওঠে।

ফ্লোটিলা সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক জলসীমা থেকে ইসরায়েলি বাহিনী তাদের আটক করেছে। গত মঙ্গলবার পূর্ব ভূমধ্যসাগর হয়ে গাজায় মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে যাওয়া বহরের অন্তত ৪৮টি নৌযান আটকে দেওয়া হয় এবং প্রায় ৪০০ আন্তর্জাতিক অধিকারকর্মীকে আটক করা হয়।

ত্রাণবহরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দুটি নৌযান লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়েছে। যদিও ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গুলি চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লোটিলার সরাসরি সম্প্রচারিত ভিডিওতে নৌযানের দিকে গুলির মতো বস্তু নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। তবে সেগুলো কী ধরনের গোলাবারুদ ছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, ৩৯টি দেশের ৪২৬ জন অধিকারকর্মী ও সাহায্যকর্মী নিয়ে দক্ষিণ তুরস্ক থেকে এই ত্রাণবহর গাজার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিল। এর আগেও একই ধরনের দুটি প্রচেষ্টা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আটকে দেয় ইসরায়েল।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *