অশ্রু, আবেগ আর জোড়া গোলের জাদুতে মনুমেন্তালে দেশের মাটিতে মেসির সম্ভাব্য রাজকীয় বিদায়

অশ্রু, আবেগ আর জোড়া গোলের জাদুতে মনুমেন্তালে দেশের মাটিতে মেসির সম্ভাব্য রাজকীয় বিদায়

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দেশের মাটিতে প্রিয় তারকার শেষ ম্যাচ হতে পারে—এমন ভাবনায় বুয়েনস আয়ার্সের মনুমেন্তাল স্টেডিয়ামের গ্যালারি জুড়ে ছিল বিষণ্ণতা আর উন্মাদনার এক অপূর্ব মিশ্রণ, যেখানে জোড়া গোল করে দর্শকদের এই আবেগঘন রাতকে চিরস্মরণীয় করে রাখলেন লিওনেল মেসি। ওয়ার্ম-আপের সময় থেকেই দর্শকদের ভালোবাসায় সিক্ত মেসির চোখে জল দেখা যায় এবং পরে তিন সন্তান থিয়াগো, মাতেও ও সিরোর হাত ধরে মাঠে প্রবেশের দৃশ্যটি গ্যালারির ভিআইপি বক্সে থাকা স্ত্রী অ্যান্তোনেলা রোকুজ্জোসহ উপস্থিত সবাইকে চরম আবেগাপ্লুত করে তোলে। ম্যাচের প্রথমার্ধে লিয়ান্দ্রো পারেদেসের পাস থেকে বল পেয়ে হুলিয়ান আলভারেজ নিজে শট নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তা অধিনায়কের দিকে বাড়িয়ে দেন এবং দারুণ এক চিপে গোলরক্ষক ও দুই ডিফেন্ডারের মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান মেসি। দ্বিতীয়ার্ধের ৭৬তম মিনিটে নিকো গনসালেসের ক্রস থেকে লাউতারো মার্তিনেজের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই থিয়াগো আলমাদার সঙ্গে চমৎকার বোঝাপড়ায় নিজের দ্বিতীয় গোলটি আদায় করে নেন এই ফুটবল জাদুকর। এই জোড়া গোলের সুবাদে বাছাইপর্বে নিজের গোলসংখ্যা আটে উন্নীত করে লুইস দিয়াজকে টপকে সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনটি নিজের করে নেন তিনি; যদিও পরবর্তীতে আরেকটি চিপ জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল করে দেন। দুই দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১৯৪ ম্যাচ খেলা, কাতার বিশ্বকাপ ও জোড়া কোপা আমেরিকা জয়ী এই মহাতারকাকে ঘিরেই ৩-০ গোলের দাপুটে জয়ের এই রাতটি যেন এক মহাকাব্যের শেষ অধ্যায়ে পরিণত হয়েছিল। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ইকুয়েডরের বিপক্ষে শেষ ম্যাচের অপেক্ষায় থাকা ফুটবলপ্রেমীদের হৃদয়ে মনুমেন্তালের এই জাদুকরী ও অশ্রুসিক্ত বিদায়ী মহোৎসব চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবে।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *