পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায়: ঘাতক সোহেল ও তার স্ত্রীর মৃত্যুদণ্ড

ওয়ান নিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে পাশবিক নির্যাতনের পর অত্যন্ত নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত বহুল আলোচিত মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে মূল অপরাধী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়কেই সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদণ্ড’ দিয়েছেন আদালত। আজ রোববার (৭ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন আসামিদের কাঠগড়ায় উপস্থিত রেখে এই ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেন, যা নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। গত ১৯ মে পল্লবীর একটি আবাসিক ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত ও মস্তকবিহীন দেহ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় ঘাতক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে এবং পরবর্তীতে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সোহেল রানা নিজের লোমহর্ষক অপরাধের বিবরণ দিয়ে জানায় যে, সে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পাশের ফ্ল্যাটের ওই শিশুটিকে ফুসলিয়ে নিজের বাথরুমে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং শিশুটি অজ্ঞান হয়ে পড়লে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে ধারালো ছুরি দিয়ে তার মাথা কেটে শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে, তবে এ সময় বাইরে শিশুটির মায়ের উপস্থিতি টের পেয়ে সে রেঞ্জ দিয়ে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান ভূঁইয়ার দক্ষ তদন্তে মাত্র ৫ দিনের মাথায় গত ২৪ মে আদালতে দ্রুততম সময়ে চার্জশিট দাখিল করা হয় এবং ঈদুল আজহার ছুটি শেষে গত ১ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মাত্র চার কার্যদিবসের মধ্যে এই চাঞ্চল্যকর বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এক অনন্য নজির স্থাপন করা হয়। বিচার চলাকালীন ২ জুন শিশুটির বাবা-মাসহ ১৬ জন প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনে আসামি সোহেল ক্ষমা প্রার্থনা করলেও আদালত অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনা করে কোনো অনুকম্পা দেখায়নি; এমনকি দীর্ঘ অবকাশকালীন ছুটি থাকা সত্ত্বেও এই স্পর্শকাতর মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ট্রাইব্যুনালের বিশেষ ছুটি বাতিল করে আজ এই দৃষ্টান্তমূলক রায় ঘোষণা করা হলো।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *