সৌদির অর্থনৈতিক নির্ভরতার চাপে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকিতে পাকিস্তান

সৌদির অর্থনৈতিক নির্ভরতার চাপে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়ানোর ঝুঁকিতে পাকিস্তান

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: তীব্র অর্থনৈতিক সংকট সামাল দিতে সৌদি আরবের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীল পাকিস্তান এখন ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়ানোর কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। ফিন্যানশিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এপ্রিলে রিয়াদের কাছ থেকে তিন বিলিয়ন ডলারের জরুরি ঋণ সহায়তা পাওয়ার পর থেকেই মূলত দুই দেশের মধ্যকার গোপন প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সক্রিয় হতে শুরু করে, যা ইয়েমেন ইস্যুতে ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ অবস্থানকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দিয়েছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান-সমর্থিত হুতিদের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ১৩ জন নিহত ও শত শত আহতের ঘটনার পাশাপাশি দ্বিতীয় আরেকটি হামলায় এক প্রবাসী পাকিস্তানি প্রাণ হারানোর পর পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ রিয়াদের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার বিষয়ে তাঁদের অবিচল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। ইতিমধ্যেই সৌদির আকাশসীমা সুরক্ষায় এক স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান ও পাইলট পাঠিয়েছে ইসলামাবাদ এবং পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ সৌদির তেল স্থাপনাগুলো রক্ষায় গত আগস্টে নবায়নকৃত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ অনুযায়ী তুরস্কের পাশাপাশি পাকিস্তানও সামরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কূটনৈতিকভাবে ইরানকে কাজে লাগিয়ে হুতিদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করলেও তা পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। অথচ খোদ পাকিস্তানের অভ্যন্তরেই এ যুদ্ধে অংশগ্রহণের ঘোর বিরোধিতা রয়েছে; বিশেষ করে দেশটির বৃহৎ শিয়া সম্প্রদায় ইরানের প্রতি সহানুভূতিশীল এবং তারা পরোক্ষভাবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষাকারী হাউজ অব সাউদের পক্ষে এই সংঘাত মেনে নিতে নারাজ, যার প্রমাণ মেলে গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে তাদের বিশাল শোকমিছিলে। ২০১৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের সরকার সংসদে প্রস্তাব পাসের মাধ্যমে রিয়াদের এমন সামরিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিলেও, বর্তমানের সামরিক বাহিনী-নির্ভর দুর্বল শাহবাজ সরকার জনমত বা সংসদীয় আলোচনাকে পাশ কাটিয়েই পদক্ষেপ নিচ্ছে। এফ-১৬ সহ প্রায় চারশো যুদ্ধবিমান ও ছয় লাখ ষাট হাজারের বেশি পদাতিক সেনার শক্তিশালী বাহিনী থাকলেও নিজেদের অভ্যন্তরীণ জঙ্গিবাদ দমনে হিমশিম খাওয়া পাকিস্তানের জন্য নতুন কোনো ফ্রন্টে জড়ানোটা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কিন্তু রিজার্ভের প্রায় ৩৮ শতাংশের সমপরিমাণ সৌদির পাঁচ বিলিয়ন ডলারের আমানত এবং প্রবাসীদের পাঠানো প্রায় ৯.৭৮ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল ভঙ্গুর অর্থনীতির কারণে পাকিস্তানের পক্ষে রিয়াদকে ফেরানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে, যা ভবিষ্যতে দেশটির ভেতরে ভয়াবহ রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করার পাশাপাশি ইরানের সাথে তাদের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক ভারসাম্যও নষ্ট করতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *