গুম মানবতাবিরোধী জঘন্যতম অপরাধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গুম মানবতাবিরোধী জঘন্যতম অপরাধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতে কঠোর আইনি কাঠামো গড়ছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

ওয়ান নিউজ ডেস্ক: আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে গুম বা বলপূর্বক অন্তর্ধানকে বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, এটি চরম মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, এই নির্মমতা কেবল কোনো ব্যক্তির হারিয়ে যাওয়া নয়, বরং একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ ও স্বপ্নকে অন্তহীন শোক ও অনিশ্চয়তার মাঝে ঠেলে দেওয়া। পতিত ও পলাতক স্বৈরাচারী সরকার দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুমের মতো নিষ্ঠুর পথ বেছে নিয়েছিল এবং অপহৃতদের বছরের পর বছর আটকে রাখতে ‘আয়নাঘর’-এর মতো গোপন বন্দিশালা তৈরি করেছিল বলে উল্লেখ করে তিনি জানান, দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী বিগত সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে অন্তত সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে। ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদী চক্রের পতনের পর সৌভাগ্যক্রমে অনেকেই ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী বা চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের সন্ধান আজও মেলেনি। গুমের মতো মানবতাবিরোধী এই অমানবিক অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে এবং প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার জোরকদমে কাজ শুরু করেছে; যার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে, যা আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ ঠেকানো সম্ভব হবে। পরিশেষে আইসিসির রোম সনদের ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এবারের প্রতিপাদ্য ‘ভিকটিমস ফার্স্ট, অ্যাকশনস নাউ’-এর আলোকে গুমের সঙ্গে জড়িত সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিতে বিশ্বব্যাপী ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদাত্ত আহ্বান জানান।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *