ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় কিডনি চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে খুব শিগগিরই সব জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নে তিন মাস মেয়াদি বিশেষ প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হচ্ছে ৫ হাজার নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে, যার পাশাপাশি এই দুই ক্যাটাগরিতে আরও আড়াই হাজার নতুন পদ সৃষ্টির সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান, সরকারের এই পরিকল্পনার অধীনে প্রতিটি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যা এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস ইউনিট স্থাপন করা হবে; আর এ লক্ষ্যে ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ও সর্বোচ্চ ৪০ বছর বয়সী সরকারি নার্সদের কাছ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রশিক্ষণের আবেদনও সংগ্রহ করা হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক দিল আফরোজা জানিয়েছেন, ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন, পাবনা ও রাজশাহীতে ইতোমধ্যে ১২০ জনকে নিয়ে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে এবং খুব দ্রুত সিলেটসহ দেশব্যাপী তা সম্প্রসারিত হবে। মূলত ‘ক্যাম্পস’ ও বাংলাদেশ রেনাল অ্যাসোসিয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ কিডনি রোগে ভুগলেও বিদ্যমান ১৪৬টি ডায়ালাইসিস সেন্টারের প্রায় ৭০ শতাংশই ঢাকাকেন্দ্রিক হওয়ায় প্রান্তিক রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। এই বৈষম্য দূর করতে গত ১২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে, জেলা পর্যায়ের কেন্দ্রগুলো পুরোদমে চালুর তিন বছর পর উপজেলাগুলোতেও ডায়ালাইসিস সেবা সম্প্রসারণের রূপরেখা তৈরি করা হবে এবং ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (নিকডু) ও ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। এছাড়াও চিকিৎসা খাতের সার্বিক উন্নয়নে চিকিৎসকদের অভাব দূর করতে প্রবেশনারি ডাক্তারদের নিজ নিজ উপজেলায় পদায়ন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও কনসালট্যান্টদের স্বয়ংক্রিয় পদায়ন কার্যকর করা, এক মাসের মধ্যে সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার প্রকল্প একনেকে তোলা এবং মিরপুরে মেডিকেল কলেজের বদলে ৬০০ শয্যার একটি বৃহৎ জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের মতো বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও ওই সভায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।

