ওয়ান নিউজ ডেস্ক: ইয়েমেনের রাজধানী সানার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি আরবের সাম্প্রতিক হামলার কড়া জবাব দিতে এবার সৌদির আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা, যা বিগত কয়েক বছরের মধ্যে দুই পক্ষের মাঝে সবচেয়ে বড় সামরিক উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। সোমবারের (১৩ জুলাই) এই পাল্টাপাল্টি হামলায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া না গেলেও হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক ভিডিও বার্তায় সানার ওপর থেকে অবরোধ না ওঠা পর্যন্ত বৈশ্বিক বিমান সংস্থাগুলোকে সৌদির আকাশসীমা এড়িয়ে চলার কড়া সতর্কতা দিয়ে বলেছেন যে, সৌদির এই আগ্রাসনের মাধ্যমে তুলনামূলক ‘শান্তিপূর্ণ সময়ের’ অবসান ঘটল। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের দাবি, একটি ইরানি বিমান অবতরণ ঠেকাতে সানায় হামলা চালানো হয়েছিল; অন্যদিকে হুতিদের দাবি, মূলত রোগী ও আটকে পড়া মানুষদের বহনকারী মানবিক ফ্লাইট বন্ধ করতেই সৌদি এই হামলা চালিয়েছে যার চরম মূল্য তাদের চোকাতে হবে। উদ্ভূত এই সংকটজনক পরিস্থিতিতে সোমবার বিকেলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এক জরুরি বৈঠকে বসে, যেখানে জাতিসংঘের রাজনৈতিকবিষয়ক সহকারী মহাসচিব খালেদ খিয়ারি নতুন করে সংঘাত না বাড়িয়ে সব পক্ষকে গঠনমূলক আলোচনার টেবিলে বসার তাগিদ দিয়ে স্মরণ করিয়ে দেন যে, এই অঞ্চলটি নতুন কোনো যুদ্ধের ভার সইতে পারবে না। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুতিরা সানা দখলের পর শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে পরের বছর থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট লড়াই করে আসলেও চলতি বছরের শুরুতে মতবিরোধের জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়; তবে ইয়েমেনে নিজেদের হামলার বিষয়ে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও সোমবার রাতে এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সৌদি জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন যে, দক্ষিণাঞ্চলে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে।

