ওয়ান নিউজ ডেস্ক | আন্তর্জাতিক
ইরানকে ঘিরে নতুন সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই সম্ভাব্য হামলা আপাতত স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের অনুরোধ এবং চলমান কূটনৈতিক আলোচনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৮ মে) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের নেতাদের অনুরোধে পরিকল্পিত সামরিক পদক্ষেপ আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এগোচ্ছে এবং সেটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
তবে ট্রাম্প স্পষ্ট করে দেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। আলোচনায় অগ্রগতি না হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজন হলে আবারও কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত বলেও সতর্ক করেন তিনি।
এদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও পাল্টা প্রতিক্রিয়া এসেছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ভুল কৌশলগত সিদ্ধান্ত’ না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তার ভাষায়, নতুন কোনো হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলো নতুন সংঘাত এড়াতে চায়। কারণ ইরানের কাছে থাকা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের কারণে অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনা, বিমানবন্দর ও অবকাঠামো ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই অঞ্চলটিতে উত্তেজনা তীব্র হয়ে ওঠে। পাল্টা জবাবে ইরানও বিভিন্ন মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ থেমে থাকেনি।
একই সময়ে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন এই রুট দিয়ে হওয়ায় পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এখনও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ওয়াশিংটন ও তেহরান। ইরান যুদ্ধ বন্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে হামলা না করার নিশ্চয়তা চাইছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক কর্মসূচিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের দাবি জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সামরিক উত্তেজনার মাঝেও কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়নি।
