আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইরানের ওপর নতুন করে কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তেহরানের বিশ্বব্যাপী আর্থিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। খবর আলজাজিরার।
স্কট বেসেন্ট বলেন, তেল খাতসহ ইরানের সব ধরনের আয়ের উৎস বন্ধ করে দেওয়া এবং অন্যান্য দেশ ও কোম্পানিকে তেহরানের সঙ্গে ব্যবসা থেকে বিরত রাখাই নতুন এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে আমাদের উদ্দেশ্য হলো এই স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বেঁচে থাকার প্রতিটি অর্থনৈতিক জীবনরেখা বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া, যেন তেহরান সম্পূর্ণ একা হয়ে পড়ে।’
ইরানের সঙ্গে তেল কেনাবেচা ও ব্যবসা চালিয়ে যাওয়া দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে সতর্ক করে মার্কিন অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যে কোনো একটিকে বেছে নিতে হবে। নতুন এই উদ্যোগের ফলে তেহরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর মাধ্যমিক নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিও তৈরি হবে।
বেসেন্ট আরও বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার নাগালের বাইরে কেউ নেই। যেসব দেশ বা প্রতিষ্ঠান ইরানের সঙ্গে লেনদেন সহজতর করছে এবং ইরানি তেলকে অর্থে রূপান্তরের কাঠামোর অংশীদার হচ্ছে, তাদের সবাইকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই নতুন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযানের নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ফরাসি উপকূলে মিত্রবাহিনীর অবতরণের সঙ্গে তুলনা করে একে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন বেসেন্ট।
মার্কিন ও ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হওয়ার প্রায় ছয় মাস পর নতুন এই অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা এলো। তবে ওই হামলার পরও তেহরানের শাসনব্যবস্থাকে ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হয়নি।
এর জবাবে ইরান মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে সেটি প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে তেহরান। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাসের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে গেছে।
সংকট সমাধানে এর আগে একাধিক দফা সামরিক সংঘাত ও কূটনৈতিক উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। সোমবারের নতুন নিষেধাজ্ঞা ইরানের ওপর বড় ধরনের ছাড় দিতে চাপ সৃষ্টির সর্বশেষ মার্কিন উদ্যোগ। এর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি পরিত্যাগ এবং হরমুজ প্রণালিতে জলযানে হামলা বন্ধের দাবিও রয়েছে।
বেসেন্ট জানান, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ফোনালাপে ইরানি প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করার জন্য সুনির্দিষ্ট অনুরোধ জানিয়ে আসছেন।
তিনি বলেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকবে, তারা মার্কিন অংশীদারিত্বের সুফল পাবে। আর যারা ইরানি প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখবে, তাদেরও বিচ্ছিন্নতার মুখোমুখি হতে হবে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় ইরানের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এগুলো হলো—ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও শিপিং।
তবে ওয়াশিংটনের এই বিধিনিষেধ প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরানের সঙ্গে অন্য দেশগুলোর সম্পর্ক সীমিত করার মতো অর্থনৈতিক অবস্থানে যুক্তরাষ্ট্র নেই। তেহরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না বলে দাবি করেন তিনি।

