ওয়ান নিউজ ডেস্ক: দেশের ক্রীড়া ও বিনোদন অঙ্গনের অন্যতম বহুল আলোচিত ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মির বিয়ে-সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে। মামলার আনা অভিযোগসমূহ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হলে এই দম্পতির সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডই হতে পারে। আজ বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় প্রকাশ করবেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ৬ মে মামলার উভয় পক্ষের আইনজীবীদের দীর্ঘ আইনি যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায়ের জন্য আজকের দিন অর্থাৎ ১০ জুন ধার্য করেন। যুক্তিতর্ক শুনানিকালে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান আসামিদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও অবৈধ বিয়ের অভিযোগ তুলে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে তাদের সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেন এবং আদালত থেকে খালাস প্রার্থনা করেন।
মামলার বিবরণ ও নথি অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে রাজধানীর উত্তরার একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও কেবিন ক্রু তামিমা সুলতানার বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়, যখন অভিযোগ ওঠে যে তামিমা তার আগের স্বামীকে আইনগত ও ধর্মীয় নিয়ম মেনে তালাক না দিয়েই নাসিরের সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন।
এই ঘটনার জেরে তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব হাসান বাদী হয়ে ২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটির স্পর্শকাতরতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত পিবিআই-কে তদন্তের নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) আদালতে একটি চাঞ্চল্যকর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে তামিমার আগের বিয়ে বহাল থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বিজ্ঞ আদালত নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। আইনি বিশেষজ্ঞদের মতে, দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী অপরাধ প্রমাণিত হলে নাসির ও তামিমার ৫ থেকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে, যার দিকে এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।

