ওয়ান নিউজ ডেস্ক
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালের তৃতীয় তলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে। বুধবার (২০ মে) সকাল ৬টার দিকে হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) সংলগ্ন এলাকায় এ আগুনের ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুন লাগার পর মুহূর্তেই কালো ধোঁয়ায় পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। এতে হাসপাতালে থাকা রোগী, স্বজন ও কর্তব্যরত স্টাফদের মধ্যে চরম আতঙ্ক দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোগীদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের কয়েকজন স্টাফ ও ফায়ার সার্ভিস সদস্য আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের স্টাফ সাইদুর রহমান, সিনিয়র স্টাফ নার্স নওরিন, দিপালী ও শারমিন এবং ফায়ার সার্ভিস সদস্য তৌহিদ। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে চিকিৎসার জন্য বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালের ওয়ার্ডবয় রেজাউল জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্টোর রুম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় ওটি ও পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে কিছুই দেখা যাচ্ছিল না। পরে পেছনের দরজা দিয়ে সংকটাপন্ন রোগীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইমারজেন্সি ওটির দায়িত্বে থাকা সহকারী অধ্যাপক ডা. দিলীপ কুমার বলেন, শর্টসার্কিট অথবা এসির বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে। পরে আগুন অক্সিজেন লাইনের আউটডোর অংশে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় ওটিতে থাকা কয়েকজন চিকিৎসাকর্মী জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সরকার মাসুদ আহমেদ। তিনি বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনরা জানান, বেশিরভাগ মানুষ তখন ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ ধোঁয়া ও আগুন দেখে সবাই আতঙ্কিত হয়ে নিচে নেমে আসেন। অনেকেই তাদের রোগীদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
এদিকে, হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. হোসেন আলী জানান, আগুনের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত করা হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের অক্সিজেন সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত সব ধরনের অপারেশন বন্ধ রাখা হয়েছে।
খুমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী আইনুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কাজ চলছে এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

