ওয়ান নিউজ ডেস্ক
ইরান ইস্যুকে কেন্দ্র করে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করতে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সিনেটের এক শুনানিতে দেশটির ভারপ্রাপ্ত নৌবাহিনী সচিব হাং কাও এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত সিনেট অ্যাপ্রোপ্রিয়েশনস সাবকমিটি অন ডিফেন্সের শুনানিতে তিনি বলেন, বর্তমানে ইরান সংশ্লিষ্ট সামরিক অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ মজুত নিশ্চিত করতেই অস্ত্র সরবরাহে সাময়িক বিরতি দেওয়া হয়েছে।
হাং কাও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব নিরাপত্তা ও সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখাই এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ। তবে প্রশাসন প্রয়োজন মনে করলে ভবিষ্যতে আবারও অস্ত্র বিক্রির প্রক্রিয়া চালু করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বিবেচনায় ওয়াশিংটন সামরিক সরঞ্জামের মজুত বাড়ানোর দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে।
এদিকে সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকেও তাইওয়ানের জন্য প্রস্তাবিত এই অস্ত্র চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয় ছিল বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রশাসনের সূত্র বলছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন ছাড়া এই বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ কার্যকর হবে না।
চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন কংগ্রেস তাইওয়ানের জন্য অস্ত্র প্যাকেজটির অনুমোদন দেয়। এটি বাস্তবায়িত হলে তা আগের রেকর্ড অস্ত্র চুক্তিকেও ছাড়িয়ে যাবে।
অন্যদিকে তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই জানিয়েছেন, সাময়িক স্থগিতাদেশের পরও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে তাইপে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই সিদ্ধান্ত তাইওয়ানের নিরাপত্তা কৌশল ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে চীনের সঙ্গে কূটনৈতিক সমীকরণেও নতুন মাত্রা যোগ হতে পারে।

