নির্বাচনের আগেই ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত

নির্বাচনের আগেই ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই ঢাকায় আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আগামী ১১ জানুয়ারি তার বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। এ নিয়ে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের মধ্যে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

গত ১৮ ডিসেম্বর ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের পরবর্তী রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ চূড়ান্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট। তিনি ঢাকায় নিযুক্ত অষ্টাদশ মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নতুন রাষ্ট্রদূতের যোগদানের বিষয়ে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বৈঠক করেছেন মার্কিন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আল সিয়ামের সঙ্গে কর্মকর্তারা বৈঠক করেন। সেখানে নতুন রাষ্ট্রদূতের ঢাকায় আসার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে পিটার হাস দায়িত্ব শেষ করে ঢাকা ত্যাগ করার পর ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনিও সম্প্রতি বিদায় নিয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনকে মনোনয়ন দেন, ডিসেম্বরে সিনেটে তা চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।

কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত নির্বাচনের আগে ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সিনেটে অনুমোদনের আগে সেখানে কমিটি অন ফরেন রিলেশন্সের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং এর গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত উত্তরসূরি উভয়ের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক গড়ে তুলতে দূতাবাসের ঢাকা টিমকে নেতৃত্ব দেওয়ার প্রত্যাশায় রয়েছি। প্রায়শই নতুন এশিয়ান টাইগারদের মধ্যে একটি হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সম্ভাবনা প্রত্যক্ষ করে। প্রচণ্ড চ্যালেঞ্জ কাটিয়ে বাংলাদেশ এখন স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা থেকে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে, বাংলাদেশের জনগণের স্থিতিস্থাপকতা ও এই অধ্যবসায়ের প্রতি সত্যিকারের শ্রদ্ধা জানাতে হয়।’’

তিনি বলেন, ‘‘দায়িত্ব নিশ্চিত হলে আমি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে, বাণিজ্য বাধা ও বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে কাজ করবো।’’

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আগে কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে তার। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক-বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *