‘অপমানিত’বোধ করছেন রাষ্ট্রপতি, ভোটের পর সরে যেতে চান

‘অপমানিত’বোধ করছেন রাষ্ট্রপতি, ভোটের পর সরে যেতে চান

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই পদত্যাগ করতে চান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি ‘অপমানিত’ বোধ করছেন এবং তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়তে ইচ্ছুক।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদটি সাংবিধানিকভাবে মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও, ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভূমিকা বাড়তি গুরুত্ব পায়। সংসদ ভেঙে যাওয়ার ফলে তিনি হয়ে ওঠেন দেশের শেষ সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ।

৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে পাঁচ বছরের জন্য বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে : রাষ্ট্রপতি

ঢাকা থেকে হোয়াটসঅ্যাপে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমি বিদায় নিতে আগ্রহী। এখান থেকে বের হয়ে যেতে চাই। নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত আমাকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সংবিধানই আমাকে এই অবস্থানে রেখেছে।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, নোবেলজয়ী মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার গত সাত মাসে তাকে একবারও সাক্ষাৎ করেনি। রাষ্ট্রপতির প্রেস বিভাগও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি সেপ্টেম্বর মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও কনস্যুলেটে রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি সরিয়ে ফেলা হয়।

রাষ্ট্রপতি বলেন, এক রাতে হঠাৎই দূতাবাসগুলো থেকে রাষ্ট্রপতির ছবি সরিয়ে ফেলা হলো। এতে ভুল বার্তা যায়—যেন রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি অত্যন্ত অপমানিত বোধ করেছি।

তিনি জানান, এ বিষয়ে তিনি ইউনূসকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। “আমার কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে,” বলেন তিনি।

সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ

সাহাবুদ্দিন বলেন, তিনি সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। ২০২4 সালের আন্দোলনের সময় সেনাবাহিনী সরাসরি হস্তক্ষেপ না করায় শেখ হাসিনার পতন দ্রুত ঘটে। তবে সেনাপ্রধান তাকে আশ্বস্ত করেছেন সামরিক শাসন বা ক্ষমতা দখলের কোনো ইচ্ছা তার নেই।

আগামী নির্বাচন নিয়ে প্রেক্ষাপট

রয়টার্স জানায়, সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যাচ্ছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী এগিয়ে রয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তারা জোটবদ্ধ হয়ে সরকার পরিচালনা করেছিল।

শেখ হাসিনা ক্ষমতা ছাড়ার পর তার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না এ প্রশ্নে সাহাবুদ্দিন উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর থেকেই তিনি কোনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *